প্রতিধ্বনি প্রতিনিধি,, আগরতলা,, ৯ জানুয়ারি,,
রাজ্যে উন্নত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। বেড়েছে অপরাধীদের শাস্তির হার। ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতে ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি করলেন ত্রিপুরা পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ। পুলিশ মহা নির্দেশক জানান ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে রাজ্যে সার্বিক অপরাধের হার ৮.৩ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালে রাজ্যে অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল ৪০৩৩টি। ২০২৫ সালে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে ৩৬৯৮ টি। তথ্য তুলে ধরে পুলিশ মহানির্দেশক জানিয়েছেন খুন, ছিনতাই ,মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ, সম্পত্তিগত অপরাধ, সমস্ত ধরনের অপরাধের হারই ২০২৫ সালে গত কয়েক বছরে তুলনায় নিম্নমুখী। একইভাবে নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গরার কর্মসূচিতে পুলিশের অভিযান এবং মামলার হার বিগত বছরের তুলনায় ১১.৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে রাজ্যে এনডিপিএস মামলা হয়েছিল ৪৭০ টি। ২০২৫ সালে রাজ্যে এনডিপিএস মামলা হয়েছে ৫২২টি। এইসব মামলায় মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা এবং মাদক কারবারীদের গ্রেফতারের হারও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ২০২৫ সালে রাজ্যে বিদেশি অনুপ্রবেশের ২০২ টি মামলায় ৫৭৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশী রয়েছেন ৩৯৩ জন রোহিঙ্গা ১২ জন এবং ৬০ জন অন্যান্য দেশের। বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে পুলিশে কঠোর মনোভাব এবং ধরপাকরের ফলে অনুপ্রবেশ কমেছে বলে ডিজি সাহেব জানিয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনায় প্রাণ হানির সংখ্যা কম করতে ফ্লাইওভারে সিসি ক্যামেরা লাগানো সহ ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। আগামী দিনে ট্রাফিক পুলিশে আরো নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাফিক পরিষেবাকে আরো মসৃণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ২০২৩ সালে ত্রিপুরার ধলাই জেলায় বাঙালি বাড়ি ঘরে হামলা আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা সহ বিক্ষিপ্ত সামাজিক এবং রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা গুলিতে তদন্ত এখনো চলছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে। ডিজি অনুরাগ বলেন সেই সব ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি আরো বলেন বিভিন্ন ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলেও পুলিশ সমস্ত ঘটনায় রাজনৈতিক রঙ এবং ব্যক্তি পরিচয়ের উর্ধ্বে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে এবং তাদের আইনত বিচার হবে । সব মিলিয়ে পুলিশ মহা নির্দেশক দাবি করেছেন রাজ্যে পুলিশ ব্যবস্থা বিগত কয়েক বছরে তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। অপরাধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হলেও অপরাধের পরপরই পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিরতা এবং সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশীদের হুমকির ঘটনায় রাজ্যের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কোন ধরনের হুমকি নেই বলে পুলিশ মহা নির্দেশক আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন রাজ্যে এবং রাজ্য বাসি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। সীমান্তে বিএসএফ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে পুলিশ তাদের কাজ করে চলছে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরো মজবুত রাখতে তিনি নাগরিকদের কাছে আহবান রেখেছেন তারা যাতে পুলিশকে নাগরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রসঙ্গত পুলিশ সদর দপ্তরের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন পুলিশ মহা নির্দেশক সহ আইনশৃঙ্খলা বিভাগের আইজি এবং পুলিশের অন্যান্য বিভাগীয় আধিকারিকদের একাংশ উপস্থিত ছিলেন।
