প্রতিধ্বনি প্রতিনিধি,,আগরতলা,, ২৩ জানুয়ারি,,
মুসলিমদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্কুলে সরস্বতী পুজাকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতির এক ভিন্ন পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে রাজধানী আগরতলা সংলগ্ন পশ্চিম নোয়াবাদী লাড্ডু চৌমুনিতে। স্থানীয় আন নূর একাডেমি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তত্ত্বাবধানে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আয়োজন করলেন বিদ্যা দেবীর আরাধনা পর্ব। নুর একাডেমিতে সরস্বতী পুজোয় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এক হয়ে গেল।

স্কুল অঙ্গনেই সনাতনী নিয়ম নীতি মেনে পূর্ণ ভক্তির সাথে সরস্বতী ঠাকুরের পূজা করলেন পুরোহিত। পূজার সরাসরি সহযোগিতায় ছিলেন স্কুলের সনাতনী হিন্দু ধর্মের শিক্ষিকা এবং অভিভাবকরা। পাশে থেকেই সমস্ত পূজা পড়বে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, প্রিন্সিপাল ইয়ার হোসেন সহ অন্যান্যরা। নুর একাডেমিতে সরস্বতী পূজার এই সম্প্রীতির বার্তায় উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী ডক্টর প্রণব পাল, ভারতীয় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জোয়ান নিজামুদ্দিন সহ অন্যান্যরা। মুসলিম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে শুরু থেকেই সর্ব ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষক সদস্য এবং ছাত্রছাত্রী রয়েছেন আন নূর একাডেমিতে।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন পাঁচ বছর হয়েছে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছে। নূর অর্থ হচ্ছে আলো। এই আন নূর একাডেমী তৈরি করা হয়েছে অন্ধকার থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার আলোকে আনতে। যেখানে শিক্ষার আলো থাকে সেখানে ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকতে পারে না। সব ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীকেই মানবতা এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিভেদের মধ্যে মিলনের পাঠ দেওয়া হয়। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবছর স্কুলে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন সরস্বতী পূজায় আমরা সবাই মিলেমিশে এক হয়ে যাই। অনেক আনন্দ হয় ছাত্রছাত্রীরা অনেক আনন্দ করে। আনন্দের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ কিংবা নিষেধাজ্ঞা আমরা কোনদিন কল্পনাও করতে পারি না। সব ধর্মের অনুষ্ঠানকেই আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। একইভাবে স্কুলের শিক্ষিকা সুস্মিতা পাল বলেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ আমাদেরকে সমস্ত কিছু ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখানে আমরা সবাই একসাথে মিলেই স্কুলের পরিবার।
সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে সর্ব ধর্ম একতার এই বার্তা স্কুলের শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের মনে ভারতীয় সংস্কৃতির ভাবধারাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে অভিভাবক মহল আশাবাদী।