আগরতলা,, ১২ মে,,
শনিবার রাতে নিজের বাড়িতেই আক্রান্ত মহিলা সাংবাদিক নিবেদিতা চক্রবর্তী। রাষ্ট্রীয় সমাচারের ইউটিউব চ্যানেলের এই সাংবাদিক নাগরিক সমাজের বহুবিধ সমস্যা তুলে ধরে সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন গত কয়েক বছর। তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলা, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন এবং অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে নিবেদিতা এবং তাঁর চ্যানেল যথেষ্ট পরিচিতি পেয়েছে। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে স্বার্থান্বেষী একটি ক্ষুদ্র অংশ নিবেদিতার ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। মাঝে মধ্যে ফোনে তাঁকে চ্যানেল বন্ধ করার হুমকি দেয়া হচ্ছিল। চ্যানেল বন্ধ না করলে ৪ঠা মে ভোট গণনার পর চরম পরিণতির জন্য তৈরি থাকতে তাঁকে হুমকি দেয়া হয়। গত শনিবার ৯ মে রাত আনুমানিক সাড়ে দশটা নাগাদ একদল দুর্বৃত্ত নিবেদিতার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলা চালানোর ঠিক আগমুহূর্তে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করে দেয়া হয়। নিবেদিতা জানিয়েছেন- ‘হামলাকারীদের মধ্যে একজন মহিলাও ছিল। সবার মুখে ছিল মাস্ক। সেই মহিলাই আর খবর করা যাবে না’ বলে হুমকি দিতে শুরু করেন। নিবেদিতার স্বামীকে বের করে দিতে বলেন। সাথে সাথেই গেট ভেঙে ওরা বাড়িতে ঢুকতে চায়। নিবেদিতার মাথা লক্ষ্য করে ওরা থান ইট ছুঁড়ে মারে। মাথা সরিয়ে নিজেকে বাঁচান নিবেদিতা। নিবেদিতার পোষা কুকুর তেড়ে যায়। তাতেই ওরা পালায়। নিবেদিতা হামলাবাজদের এক-দুজনকে চিনতে পেরেছেন। তার মোবাইল টর্চের আলোয় হামলাবাজদের চেহারা ভেসে ওঠে। সমস্ত ঘটনা ধরা পড়েছে প্রতিবেশীর সিসিটিভির ফুটেজে। সেই ফুটেজ আক্রমণের ঘটনা নিয়ে নিবেদিতা চক্রবর্তী খবর করলে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হয়েই নিবেদিতা পুলিশের সাহায্য চান। তিপরা মথার নেতা শাহ আলামকে ঘটনা জানান নিবেদিতা। শাহ আলমের ফোন পাওয়ার পর পুলিশ নিবেদিতার বাড়িতে যায়। ঘটনার সময় নিবেদিতা ও তাঁর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ছাড়া আর কেউই বাড়িতে ছিল না। সোমবার সকালে ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় পাল, সাধারণ সম্পাদক সুনীল দেবনাথ রামনগর ১০-১১ নম্বর এলাকায় নিবেদিতা চক্রবর্তীর বাড়ি গিয়ে সংগঠনের তরফে তাঁর পাশে থাকার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন।

নিবেদিতা সংগঠনের সক্রিয় সদস্যা। হামলার তীব্র নিন্দা করে সংগঠনের তরফে অবিলম্বে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাংবাদিকদের হামলার ঘটনা বেড়ে চলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টি ডাব্লিউ জে এ। সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস্ অ্যাসোসিয়েশন দাবি জানিয়েছে।সাধারণ সম্পাদকসুনীল দেবনাথত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন।



Recent Comments